আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান–ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন নেমে এসেছে। যুদ্ধের আশঙ্কায় টানা কয়েক দিন যে দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল, ceasefire ঘোষণার পরই সেই অতিরিক্ত “war premium” দ্রুত ঝরে পড়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে Brent crude ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে ৯৪–৯৫ ডলারের ঘরে, আর WTI crude ৯৬–৯৭ ডলারের ঘরে নেমে এসেছে।
যুদ্ধবিরতির আগে পরিস্থিতি ছিল একেবারেই উল্টো। মাত্র একদিন আগেও Brent crude ১০৯ ডলারের ওপরে এবং WTI ১১০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। বাজারে সবচেয়ে বড় ভয় ছিল হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া, কারণ বিশ্বের বড় অংশের তেল সরবরাহ এই রুটের উপর নির্ভরশীল।
ceasefire-এর পর সবচেয়ে বড় স্বস্তি এসেছে হরমুজ প্রণালী আবার নিরাপদভাবে খোলার সম্ভাবনা থেকে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হতেই traders দ্রুত profit booking শুরু করেন। ফলেই একদিনে ১৩–১৫ শতাংশ পর্যন্ত দাম কমে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় single-day fall হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তেলের দাম কমতেই বিশ্ব শেয়ারবাজারেও রিলিফ র্যালি দেখা গেছে। বিশেষ করে airline, transport এবং logistics sector-এর শেয়ারগুলোতে বড় উত্থান হয়েছে, কারণ fuel cost কমার সম্ভাবনা সরাসরি এই খাতগুলোর লাভ বাড়ায়।
তবে বিশ্লেষকরা এখনই পুরো স্বস্তির কথা বলছেন না। কারণ লেবানন ফ্রন্টে ইসরায়েলের হামলা এখনও বন্ধ হয়নি, এবং ceasefire আপাতত মাত্র ২ সপ্তাহের জন্য। ফলে এই সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে গেলে তেলের দাম আবারও ১১০ ডলারের ঘরে ফিরে যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্যও এই পতন গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক crude কমলে সাধারণত ৭–১০ দিনের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের আমদানি খরচে চাপ কমে, যার ইতিবাচক প্রভাব ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও UAE-সহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে দেখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ceasefire বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তাই আগামী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক অগ্রগতিই ঠিক করে দেবে তেলের বাজার আরও নামবে, নাকি আবার নতুন করে অস্থির হবে।
মতামত লোড হচ্ছে...