দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং যুব সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্ষোভ এবার সরাসরি রাস্তায়। শনিবার দিল্লির যন্তরমন্তরে জড়ো হলেন অসংখ্য ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী এবং তরুণ-তরুণী। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, যিনি গত দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পর বিশেষভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে ভারতে ফিরে এসেছেন।
সাম্প্রতিক NEET-UG প্রশ্নপত্র ফাঁস, CBSE-এর মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম এবং যুব সমাজের মধ্যে বাড়তে থাকা বেকারত্বের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূচনা। আন্দোলনকারীদের দাবি, বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। তাই এর রাজনৈতিক দায়ভার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
যন্তরমন্তরের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বড় অংশই ছিলেন তথাকথিত ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণ-তরুণী। হাতে বই, জাতীয় পতাকা এবং বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড নিয়ে তাঁরা শিক্ষা সংস্কার, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং জবাবদিহির দাবি তোলেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের মুখে শোনা যায়, “Make in India নয়, Leak in India চলছে”, “ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও” এবং “শিক্ষার ভবিষ্যৎ বাঁচাও” স্লোগান।
আন্দোলনের অন্যতম আলোচিত মুখ অভিজিৎ দীপকে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা এই তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কনটেন্টের মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গড়ে তোলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই এই প্ল্যাটফর্ম কোটি কোটি তরুণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শুরুতে অনলাইন ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ হিসেবে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে এটি যুবসমাজের অসন্তোষের একটি সংগঠিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের একটি বড় অংশ ধর্মীয় মেরুকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। অনেকের হাতে ছিল সংবিধান, ড. বি. আর. আম্বেদকরের ছবি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের বার্তাবাহী পোস্টার। বিভিন্ন সময় “জয় ভীম” স্লোগানও শোনা যায়। তবে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
দিল্লি পুলিশ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও কর্মসূচি মূলত শান্তিপূর্ণ ছিল। আন্দোলনের নেতৃত্ব বারবার অংশগ্রহণকারীদের অহিংস ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানায়। ফুল দিয়ে পুলিশকে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাও দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের তাৎপর্য শুধু একটি মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতের নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিয়ে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বাস্তবের মাটিতে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মতামত লোড হচ্ছে...