পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এখন চরম উত্তেজনা রাজ্য রাজনীতিতে। সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ইতিমধ্যেই ব্রিগেডে বিশাল মঞ্চ, হাজার হাজার আসন, কড়া নিরাপত্তা এবং বিশেষ আমন্ত্রণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ১০ হাজারেরও বেশি আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়েও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি J. P. Nadda সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই ব্রিগেড এবং আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক উত্থান বাংলার রাজনীতিতে অন্যতম বড় অধ্যায় হিসেবে ধরা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি থেকে উঠে আসা শুভেন্দু প্রথমে যুব কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দ্রুত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবেই রাজ্য রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়। এরপর তিনি সাংসদ, বিধায়ক এবং রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন। তবে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকায় ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই বাংলায় বিজেপির প্রধান মুখ হিসেবে উঠে আসেন তিনি।
এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক আসে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে। সেখানেই তৃণমূল সুপ্রিমো Mamata Banerjee-কে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় শুধুমাত্র একটি আসনের ফল নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক। বিজেপি শিবির এই ফলকে “পরিবর্তনের রায়” হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে শপথ গ্রহণের জন্য বেছে নেওয়ার মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। একসময় বামেদের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ব্রিগেড এখন বিজেপির ক্ষমতা প্রদর্শনের মঞ্চ হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু সরকার গঠন নয়, বরং বাংলায় বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক দখলদারির প্রতীক হিসেবেও তুলে ধরা হবে।
এখন গোটা রাজ্যের নজর ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের দিকে।
মতামত লোড হচ্ছে...